খোলা জানালা
পূর্ণপ্রভা ঘোষ
আজ কোন তিথি? মেঘের গায়ে বিশাল চাঁদ উঠেছে।
সারাদিনের বৃষ্টিতে মেজাজটা ভিজে ঝুপ্পুস। যতবারই জ্বলে উঠবে ভাবে ততবারই চুপসে ঠান্ডা। একরাশ রূপের ডালি নিয়ে সুন্দরী
চাঁদ এখন হাজির। রাগ-বিতৃষ্ণা অনুরাগে বদলায় কি? গা ঝাড়া দেয় সুকান্ত।
জানালাটা খোলা থাকে সারাক্ষণ। এইঘরে একটাই জানালা। বন্ধ করলে দম আটকে মরবে। এখন ঝামেলা জানালাটাকে নিয়েই। গলির বাড়িগুলো গায়ে গা ঠেকিয়ে। সব বাড়িতে
অনেক মানুষের বাস। হাতপা ছড়িয়ে থাকত এককালে। ক্রমশ সংসার বেড়েছে, বেড়েছে লোকসংখ্যাও। অনেকদিন একসঙ্গে থাকতে থাকতে সয়ে যায়। মাঝেমাঝে ঝগড়াও লাগে, তবে তেমন নয়। কেউই গায়ে মাখে না।
পুকুরের জলে যেন খোলামকুচির ব্যাঙ লাফানো খেলা, তেমনই যাও, কতদূর লাফাবে! তারপর সেই নিস্তরঙ্গ। এখানে এ'বাড়ি ও'বাড়ি যেতে বাচ্চারা ছাদে ছাদে লাফিয়ে যায়। এতদিন কোনো ঝামেলা ছিলই না।
ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে পাড়ার চরিত্র। এই পাড়ায় এখন অনেক নতুন
মানুষ। নিত্যদিনের অভ্যাসগুলোতে ধাক্কা লাগছে প্রথমে!
ও বাড়ির সুমি এই বাড়ির ডাবুর সঙ্গে
প্রেম করে। সবাই জানে! কতদিন তো ছাদের একান্তে ওদের দুটিকে ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলতে দেখেছে
সবাই। দুজনকে বেশ মানায়। তাই সুমিকে দেখতে আসা পাত্রপক্ষকে ইচ্ছে করেই কতবার যে অন্য রাস্তা দেখিয়েছে
বাচ্চারা।
অথচ দুইবাড়ির কেউই এই সম্পর্ক মানবে না। ভগবান জানেন কেন! সুমির ভালো চেয়ে দুইবাড়ির
অভিভাবকেরা এই সম্পর্ক ভাঙতে বদ্ধপরিকর। সম্ভাব্য সমস্ত পথ বন্ধ করে নিশ্চিন্ত হতে চায়। এই জানালা দিয়ে কথা বলেই দুজনে
পালাচ্ছিল। কিভাবে যেন ধরা পড়েছে। ব্যস্! সব দোষ জানালার। অতএব বন্ধ কর।
তাহলে সুকান্ত? তার জন্যই জানালা পথে দিনান্তে অন্তত একবার হলেও এসে দাঁড়ায় সূর্য এবং চাঁদ! দুর্ঘটনায় দুইপা হারিয়ে চলচ্ছক্তিহীন
সে। তার দুইচোখে এইটুকু বহির্বিশ্ব, একটুকরো প্রাণভ্রমরা। সামান্য একচিলতে অনুরাগের আকাশ তার হৃৎপিন্ড।
অথচ তার কথা ভাবে কে! জানালাটাও না! চোখের জলে অস্পষ্ট দৃষ্টিপথ, আবছায়া অন্ধকারে এগিয়ে আসে নিরেট দেওয়াল।
হঠাৎ তার মনের মধ্যে অদ্ভুত এক আলোড়ন! চমক লাগে নিজেরই। কতরকমের শুভ ভাবনারা এসে আলোর পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলে তাকে আশ্চর্যভাবে। সে যে মনের মধ্যে শুভশক্তিরই অর্চনা করত সর্বদা। এখন তার সামনে খুলে গেল আরও মস্ত বড় জানালা।
হঠাৎ তার মনের মধ্যে অদ্ভুত এক আলোড়ন! চমক লাগে নিজেরই। কতরকমের শুভ ভাবনারা এসে আলোর পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলে তাকে আশ্চর্যভাবে। সে যে মনের মধ্যে শুভশক্তিরই অর্চনা করত সর্বদা। এখন তার সামনে খুলে গেল আরও মস্ত বড় জানালা।
_____
porinoti e je ekmatro lokkho noy eta bujhte parlei amra boro hoye uthi :)
ReplyDelete