Monday, 18 December 2017

সৌজন্যে- ফিরে দেখা (Retrospect....(feeling glad)

সৌজন্যে- ফিরে দেখা (Retrospect....feeling glad)

     দৈনন্দিন নানা কাজের মধ্যেই এক এক সময় মনে হয় কি যেন বলার ছিল, হয়ত করার ছিল কিছু কিম্বা কারও আসার কথা অথবা আমারই কোথাও যাওয়ার ছিল? কেউ কোনো কাজের কথা বলে রেখেছিল নয়ত আমি কাউকে কোনো কাজের কথা বলেছিলাম? এমন অসংখ্য ভাবনা একসময় মাথার মধ্যে ঘোঁট পাকিয়ে একেবারে ভজগোবিন্দ অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়ে দেয় আমাকে
     মাঝে মধ্যেই, হঠাৎ! ওদিকে, সংসারে হাজার কাজকর্ম
     কি করি? বড্ড অসহায় বোধ হয়নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগে। চোখের সামনে আকাশভরা ধোঁয়াশার মেঘ। মনের মধ্যে বুক-ধড়পড় দ্বন্দ্ব। চোখেমুখে বোকা বোকা অস্থিরতা।

     এইসময় কি উচিৎ কিম্বা কি উচিৎ নয় ভেবে উঠতে পারি না।

     মাপ চাইছি এইক্ষণে অবস্থার গুরুত্ব বুঝাইতে সাধুভাষার শরণাপন্ন হইলাম।

     একদিবস এমনই ভেবলু মনোকষ্টে বেতারযন্ত্রটির প্রতি আকর্ষিত হইলামসেইক্ষণে যন্ত্রটিকে হস্তে তুলিয়া জোরপুর্বক তাহার কর্ণমুল আন্দোলিত করিতে লাগিলামপ্রবল শোঁশোঁ শব্দে সে তাহার আপত্তি জানাইলতাহার আপত্তিতে পাত্তা না দিয়া এইদিক ওইদিক ঘুরাইয়া ফিরাইয়া মন ভালো করিবার সামগ্রী অনুসন্ধান করিতে থাকিলাম
     এবং সেইহেতু ক্রমাগত তাহার কর্ণমুল মর্দন করিতে লাগিলাম বীরদর্পে। কোনোপ্রকার আপত্তি শুনিলাম না, বরঞ্চ তাহা কর্তৃক সমস্তপ্রকার প্রতিরোধকে অস্বীকার করিতে থাকিলামআমি যে তাহা হইতে অধিক শক্তিশালী, তাহা সঠিকভাবে বুঝাইয়া দিতে তৎপর হইলাম সেইক্ষণে
     কোনোপ্রকার বিনষ্ট করিবার অভিপ্রায় আমার আদপেই ছিল না, সেইহেতু অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে আরও কিছুসময় ব্যয় করিলাম অনতিবিলম্বে বিফল মনোরথ হইয়া সঙ্কল্প ত্যাগ করিতে বাধ্য হইলাম। অতঃপর কিংকর্তব্য?

      চারিপার্শ্বে দৃষ্টিপাত করিলাম। গৃহে সকলই আধুনিক যন্ত্রপাতি। সংসারের দূরদর্শনে, শ্রুতি শ্রবণের বৃহৎ পরিবারে, দর্শনীয় সামগ্রীতে এমনই নানাবিধ কাড়া-নাকাড়া বাজিতে থাকে সর্বদা সময় এবং মেজাজ ধ্বংসের বিশালসম্ভার। অন্ধ অনুকরণীয় সজ্জা
      তাহাদের উপর শক্তিপ্রয়োগ করিলে অধিক অর্থদন্ড স্বীকার করিতে হইবে। অবশ্যম্ভাবীরূপে সমুচিৎ হইবে না। মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ প্রসূত প্রবলতম জ্ঞান মুহূর্তে আমাকে সতর্ক করিয়া দিল। বুঝিলাম, সংসারে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হই নাই আমি!
      অতএব অতীব আহ্লাদপুর্বক আনন্দিতচিত্তে অনুসন্ধিৎসু চক্ষুদ্বয়কে এইদিক ওইদিক সন্ধান কার্যে কিছুসময় ব্যপৃত রাখিলাম। হেনকালে বহুদিনের পুরাতন একটি পুজাসংখ্যা গোচরে আসিল। তৎক্ষণাৎ হস্তে লইয়া ধুলি আচ্ছাদন হইতে মুক্ত করিতে সচেষ্ট হইলাম। প্রতিটি পৃষ্ঠার উপর প্রায় সম্পূর্ণরূপে অবনত হইয়া মনোভার লাঘব করিবার উপাদান খুঁজিয়া বেড়াইতে থাকিলাম
      পত্রিকাটি একটি সৌজন্যসংখ্যা। সম্পাদকের নিকট হইতে কতক উচ্ছসিত প্রশংসাবাক্য সহযোগে উপহার স্বরূপ প্রাপ্তি। কোনো কারণে পরবর্তীকালে সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হইয়া গিয়াছে। নামটিও ভুলিয়াছিলাম, মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থে কিছুক্ষণ আলোড়ন করিয়া অর্থাৎ কিছুসময় ব্যয় করিয়া স্মরণে আনিলাম  
      স্মরণে আসিল আরও অসংখ্য আনন্দক্ষণ, আলোকিত অতীত দেখিলাম, আমার রচিত একখানি গল্পও রহিয়াছে। মুগ্ধ হইলাম, অশ্রুবাস্পে রুদ্ধ হইলাম এবং আশ্চর্যান্বিত হইলাম অতীতে আমাকর্তৃকই এ হেন সৃষ্টি হইয়াছিল!  
      নিজের নিজস্বতাকে অর্থাৎ স্বরূপ বুঝিতে সকলকেই পরিশ্রম করিতে হয়এবং সেই অভিপ্রায়ে আত্মহারা আমি তাহাতে নিমগ্ন হইয়া জগৎ সংসার বিস্মৃত হইলাম।

      সময় সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতক আমিও দীর্ঘসময় বহাইয়া দিলাম আমারই অলক্ষ্যে। ভুলিলাম, সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম আমারই অপেক্ষায় রহিয়াছে।

       অতঃপর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইতে বাধ্য হইলাম যে, আধুনিকতার দোহাই দিয়া যতই আমরা অগ্রগতির নেশায় দৌড়াইয়া চলি কিম্বা যতই দৌড়াক জগৎসংসার, তবুও এইপ্রকার সামগ্রী ফিরিয়া দেখিতে যে অভুতপূর্ব আনন্দ হয় তাহা অতুলনীয়
 
      এবং যেকোনো অত্যাধুনিক বিলাস বিষয়ক বিস্ময়কর যন্ত্রপাতি হইতে নহে, একান্ত সাধারণ কাগজ-কলম-মন নির্ম্মিত সাধারণ পুজাসংখ্যা হইলেও হইতেও পারেযাহাতে বহুসংখ্যক সাহিত্যপ্রেমী ভাবনা-চিন্তায় সময়ের দলিল অঙ্কিত করিয়াছেন। যাহার সৌজন্যে এই অমূল্য সম্পদ আহরিত করিয়াছি সাময়িক তাহাকে বিস্মৃত হইলেও তাহারই সৌজন্যে নির্ভর করিয়া সংসারের অসার সময় এবং তাহা হইতে প্রাপ্ত কিঞ্চিৎ মনোভার কমাইতে পারিলাম সানন্দে

                        ------

Friday, 1 December 2017

উপলব্ধি (Likely to feel some...)

                উপলব্ধি (Likely to feel some...)

   বড় অসহায় লাগে! এই জীবনটাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে জীবন তো ফুরিয়ে এল। অথচ কিছুই বোঝা গেল না, কোথা দিয়ে সময় চলে যায়!

    সেদিনেও বুঝতাম না! এখনও বুঝছি না! বেশ আছি, দিব্যি আছি। হাসছি, খেলছি, নাচছি, গাইছি। এভাবেই আনন্দে মজায় বেশ কাটছে সময়। কাটবে পরেও!
উপরওয়ালা ছপ্পড় ফুড়েই দিচ্ছেন, নো ভাবনা-চিন্তা, ডু আড্ডা-ফুর্তীমাঝে মধ্যে চলতে ফিরতে পেন্নাম ঠুকিউপরওয়ালা নির্ঘাৎ বর্তে যান এমন ভক্তি পেয়ে।

  ছুটে চলেছি, চলছি হেঁটে, উড়েও চলি যখন তখন দেদার অবকাশ জীবনে, আনন্দ উপভোগ করিএদিক ওদিক তাকানোর সময় কই! কুঁড়ে, অলস, যারা কাজেকর্মে অসফল, তারা ঘরে বসে হা-হুতাশ করে তাদের দলে নাম লেখাব না। বরং, সব্বাইকে ডাক দিই। এস, এস, বাইরে বেরোও! চারদেওয়ালের সঙ্কীর্ণতা ছেড়ে পথে নামো। দেখবে, হাজার হাজার সফল মানুষ তোমার সঙ্গে রয়েছেন
  কুঁড়েমী করে ঘরে কম্বলমুড়ি দিয়ে গুটিয়ে থাকলে চলবে না।
  এক কদম এগিয়ে এস তুমি, আমরা তোমাকে দু’কদম এগিয়ে দেব।
  মন খারাপ বলে অন্ধকারে মুখ লুকোলে কেউ কি তোমার মন ভালো করে দিতে পারবে! মনটাকে ভালো রাখতে হলে যে মনের আলো জ্বেলে নিতে হবে নিজেকেই।

  এমন কতশত উপদেশ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে, অথচ কাজে তো লাগল না!

  এইজগতে সময় থাকতে সময়ের মূল্য বোঝে কতজন?

  পস্তাতে পস্তাতে দিন যায়, এগিয়ে চলি আরোও শেষের দিকে এগিয়ে!

আলোর বৃত্তের বাইরে এমন ভয়ঙ্কর অন্ধকার থাকে কখনও বুঝতে পারিনি আগে!
উপরওয়ালা যখন দেন ছপ্পড় ফুড়েই দেন। যেমন আনন্দ, তেমন দুঃখও! যেমন খুশির উপহার, তেমনি আঘাতের কষ্টও! নতুন জীবন দিচ্ছেন যেমন, তেমনই জীবন কেড়ে নিচ্ছেন মুহূর্তে! কে বুঝবে তোমার স্বরূপ, হে ঈশ্বর!

আমরা সামান্য মানুষ, তোমাকে বোঝাতে এতবড় আঘাত না দিতেও পারো তো?

   তবে একটু যেন উপলব্ধি জাগছে, সবটাই বুঝি বিফলে যায় না জীবনে!
ভিক্ষা যদি চাইতে হয়, তোমার কাছেই চাই হে ঈশ্বর, যেন বুঝতে পারি সহজেই। তোমাকে যেন দেখতে পাই আলোর মত, তোমাকে যেন চিনতে পারি জলের মত। তোমাকে যেন খুঁজে পাই বন্ধুসখার মত, তোমাকে যেন শিখতে পারি সময়ের মত।
                                   ------