এক নতুন পৃথিবী
পূর্ণপ্রভা ঘোষ
আকাশে দ্যাখো, ওই কত আলো।
চারপাশে ঝলমলে আলোর উৎসব। তবুও যে অন্ধকার যায় না। মানুষের মনের সমস্ত কালোদিক
মুছে দিতে চাইলে কতগুলো সূর্যের দরকার কে জানে!
কোকিলের কুহুতানে কান ঝালাপালা! এত চেঁচায়, এত্তো
চেঁচায়, কই ওর গলায় তো এতটুকু স্বরের বিভ্রাট ঘটে না! সপাটে পঞ্চম থেকে তারসপ্তকে
আরোহণ, এক্কেবারে নিখুঁত সুর। ওরা কার কাছে তালিম নেয় কে জানে!
গাছে গাছে রঙের বন্যা! নানান ফুলের
নানান রঙ। লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনী। রঙের প্রতিযোগিতায় কত যে রঙ, ওরা সবাই প্রাণ
রেখেছে পণ বুঝি। এখন তো পলাশ, শিমুলেও রঙের
বন্যা। শীতের রুক্ষতায় বিবর্ণ রঙহারা হয়ে সবুজ সতেজ পাতারা ঝরে গিয়েছে। পত্রবিহীন শুকনো ডালপালায় তবুও কোন জাদুবলে জাগে এমন রঙের
প্লাবন। বুঝি, সকলের সুখস্বপ্ন, আশা-ভরসা সাজিয়ে দিয়েছে ওরা থরেথরে। কে জানে, কোথায়
পায় ওরা এত রঙ!
এইসব হাজারও ভাবনা বেশ কিছুদিন থেকে
ভালো রকম পাকড়েছে আমাকে। কখন ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম! আমরা যারা এই পৃথিবীর
মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয় নির্দিষ্ট সময়ের হিসেবে।
জানতাম।
স্বপ্ন দেখলাম, একটা অন্য পৃথিবী, ভীষন সুন্দর।
ঠিক এক্কেবারে আমাদের পৃথিবীর মতই, তবে অন্য জগতে। যেখানে সময় ফুরোলেও কাউকে
কোথাও যেতে হয় না। যেখানে একটা সময় হলেই সবাই এক একটা কবিতা হয়ে ফুটে ওঠে। সেই
জগতে কিছু গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, নিবন্ধও আছে। তবে তারা একটু কঠিন গোছের
বুদ্ধিমান হবেন, কে যেন বললে! ছোটো ছোটো প্রজাপতির মত রঙীন পাখায় ভীড় করেছে
বেশকিছু অণু পরমাণুগল্পও। কয়েকটি ছবি পাখির মত, নীলাকাশে পাখা মেলে উড়ছে।
কী সুন্দর সাজানো এই নতুন পৃথিবী!
অবাক আমি! মুগ্ধ সম্পূর্ণরূপে। আনন্দে আত্মহারা!
ঘুমটা ভেঙে গেল! হাতে আমার অনেক নতুনবই,
পড়ছিলাম। এখন আমি কি করি?
No comments:
Post a Comment